ব্যবহৃত গরিবী ও মিডিয়াপক্ষ


khali

লিখেছেন- শাখা নির্ভানা

সারা পৃথিবীর গরীব মানুষ কমবেশী প্রায় একই রকমের- একই চরিত্রের- একই বডি ল্যাঙ্গুয়েজ তাদের। তারা বাঁচার তাগিদে ধর্মকে আকড়ে থাকে, তারা অশিক্ষিত, নোংরা, অমার্জিত, অপরাধ প্রবণ এবং সবচেয়ে বড় কথা তারা চরম ও নিষ্ঠুরভাবে ধনিক, বণিক ও শাসক শ্রেণীর দ্বারা ব্যবহৃত। এবং সব শেষে সকল অপরাধের দায় শুধু তাদেরই। এই প্রপঞ্চ রাখাইনের নাগরিকত্ব হারান ১২ লক্ষ হতদরিদ্র মানুষের জন্যে যেমন সত্য, তেমনি ভারতেরর আসাম প্রদেশের ১৯ লক্ষ দৃশ্যমান সংখ্যালঘু মানুষের জন্যেও সত্য। এবং নিষ্ঠুর সত্য হলো, একুনে এই ৩১ লক্ষ মানুষের সিংহভাগই মুসলমান। মুসলমান হওয়াটা দোষের কিছু নয়। দোষ হচ্ছে সেটা, যার কারণে একজন অন্য জনের জন্যে ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়ায়।

একজন দরিদ্র মানুষ নিচু সংস্কৃতির ধারক হতেই পারে, কিন্তু কেউ যদি তার ঐ নীচুতাকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করার পরে তাকে ও তার সংস্কৃতিকে মূল অপরাধী হিসাবে চিহ্নিত করে বলে, ঐ দরিদ্র মানুষ ও তার নিচু সংস্কৃতিকে ঘৃণা করো, তাহলে বিষয়টা কেমন দাড়ায়? এমনও দাবী করা হয়, ঐ নীচু সংস্কৃতির লোকগুলো কেন তাদের আচার, আচরণ, সংস্কৃতি, অসভ্যতার সংস্কার করে পরিশুদ্ধ হয়ে উঠে না, তাহলে তো আর অন্যে ব্যবহার করতে পারে না। ভাইরে, বিষয়টা যতটা সহজে বলা যায়, ততো সহজে সম্পন্ন হবার নয়। তারা যদি নিজেদের সংস্কার নিজেরা এতদিনে করতে সক্ষম হতো, তাহলে পৃথিবীতে তাদের অবস্থান আর ব্যবহৃত হিসাবে স্থির হতো না।

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, সারা পৃথিবীর মুসলমান সম্প্রদায় আজ দিকগজ মিডিয়া শ্রেণীর কাছে অবাঞ্ছিত, অগ্রহনযোগ্য হিসাবে রঞ্জিত ও চিহ্নিত। একবার তথাকথিত বিশ্বমোড়লদের ভূরাজনীতির দিকে তাকান, সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। প্রায় প্রতিটা মুসলমান দেশের শাসক এইসব মোড়লদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ এজেন্ট। তাদের নিজেদের কোন সুর নেই, তাল নেই, রঙও নেই। মুসলমান দেশের মানুষগুলো তাই এই দ্বিস্তর বিশিষ্ট ভূরাজনৈতিক শাসকদের স্বার্থ উদ্ধার করে চলে। কীভাবে তারা নিজেদের সংশোধন করবে? নীচু সংস্কৃতির সংস্কার সাধন করার তাদের সুযোগ কোথায়?

তাই দরিদ্র, নীচু জাত ও মুসলমান এই তিন বিশেষণে বিশেষায়ীত হয়ে তাই তারা যখন দেশ থেকে অনাগরিক অবিধা নিয়ে বহিস্কৃত হয়, তখন বিশ্বমোড়লদের আর কিছু বলার থাকে না। কারণ মিডিয়া তাদের ইতিমধ্যে ক্ষতিকর পেস্ট হিসাবে চিহ্নিত করে ফেলেছে। স্কুলে পড়েছিলাম, একটা জনপদ হলোকস্টের শিকার হয় কয়েকটা ধাপে- প্রথমে সন্দেহ, পরে ভয়, ঘৃণা ও সব শেষ বিপক্ষ শক্তির কলনাইজড অবস্থা ও আক্রমন।

একতরফা পুরা জনপদের মানুষের উপরে এই সন্দেহ, ভয়, ঘৃণা কারা জাগিয়েছে? জাগিয়েছে ব্যবহারকারীদের পক্ষে স্বয়ং মিডিয়া। কোন বাছবিচার না করে অপরাধী ও নিরপরাধীকে এক কাতারে দাড় করিয়েছে মিডিয়া ও কিছু ভুল রাজনীতিক। হয়তো অনেক কারণ রয়েছে এইসব সন্দেহ ভয় ঘৃণা উৎপাদনের। সেই কারণগুলোকে মাথায় রেখে উচিৎ হবে, সন্ত্রাশ বা ঐ জাতীয় অপকর্মের মাধ্যমে যে বা যারাই ভয় ও ঘৃণা তৈরি করার মতন কাজ করুক না কেন, তাদেরকে মূল জনগোষ্ঠি থেকে আলাদা করে ফেলানো, সম্প্রদায় থেকে আলাদা করে ফেলানো এবং সঙ্গে সঙ্গে পূরা জনগোষ্ঠিকে অপরাধী করে ফেলার মতন মিডিয়া ভিত্তিক অপপ্রচারকে কঠিন হাতে দমন করা।

কিন্তু দুঃখের বিষয় প্রশাসন মিডিয়ার কাছে পরাজিত হয়েছে। আজকে যে গণহত্যা ও এক্সোডাস সংঘটিত হয়েছে রহিঙ্গাদের উপরে, কাল যে সেই একই কাজ আসামের ১৯ লক্ষ মুসলমানের উপরে ঘটবে না একথা কেউ হলপ করে বলতে পারে না। আমি সেন্স অব পারসিকিউশনে বিশ্বাস করি না। আমি মনে করি না সবাই মুসলমানদের উপরে অত্যাচার করছে, অন্যায় করছে। তবে তাদের উপরে অত্যাচার, নিষ্পেষণ এমনকি গণহতা ঘটবার মতন চারটা শর্ত ইতিমধ্যে পৃথিবীব্যপী বিরাজ করছে। এই অবস্থার জনক কিছু অবিমৃশ্যকারী মিডিয়া। আমরা জানি অনেক মুসলমান জনপদ পশ্চাদগামী, ও নীচু সংস্কৃতির ধারক এমনকি অন্যের জন্যে তা চরম ক্ষতিরও কারণ। কিন্তু গঠনমূলক সমালোচনা ও সংশোধনের প্রচেষ্টা ভিতরে ও বাইরে যদি অনুপস্থিত থাকে তাহলে একটা জনপদ কিভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে জানি না। সেই সুযোগ আছে কিনা তাও গভীরভাবে ভেবে দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s