নেতৃত্ব কেন অধরা ধারা


khali

লিখেছেন- শাখা নির্ভানা

নেতৃত্ব চর্চার মাধ্যমে শেখার বিষয়। গণিত চর্চার মাধ্যমে যেমন গণিতজ্ঞ হওয়া যায়, সৌন্দর্য চর্চার মাধ্যমে যেমন সুন্দরী হওয়া যায়, তেমনি লিডারশিপও চর্চার মাধ্যমে আসে। সৌন্দর্য বিষয়ে শিখতে স্পা স্কুলে যেতে হয়। গণিতের জন্যেও যেতে হয় বিদ্যালয়ে, মহাবিদ্যালয়ে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে। নেতৃত্ব শেখার জন্যে কেন বিদ্যালয়ে যেতে হবে না? লাগবে।

আমার বাড়ির থেকে কিছুটা দূরে আর এইচ কিং একাডেমি। এটা হাইস্কুল। আমাদের বাঙলাদেশে যাকে বলে ইন্টার বা উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণী, সেই উচ্চতা পর্যন্ত এখানে পাঠদান করা হয়। এখানে একটা প্রগ্রাম আছে, যার নাম, Leadership Pathway Program, যার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্তরে নেতৃত্ব তৈরিতে অবদান রাখছে স্কুলটা। এই প্রগ্রাম চার বছরের- নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী। এই প্রগ্রামে যারা ঢুকবে তাদের পাঁচটা কোর্স বা সাবজেক্ট আবশ্যিকভাবে নিতে হবে- ইংলিশ, ফিজিকাল এডুকেশন, সিভিক্স বা পৌরবিজ্ঞান, পেশা বা কেরিয়ার স্টাডি ও ইতিহাস।

এই কানাডার ওন্টারিওর কারিকুলাম বিষয়ে যারা পড়েছেন ও বুঝেছেন, তারা জানেন- উপরের বিষয়গুলো টেক্সট আকারে পড়ে শুধু পাশ করলে হবে না। এগুলো বেশিরভাগ এপ্লিকেশন বেজড। সেভাবেই কোর্স অউটলাইন ডিজাইন করা হয়। বিষয়টা বুঝার সুবিধার জন্যে এই প্রগ্রামের আবশ্যকীয় শর্তাবলী দিলাম-

1- Student require an extra 25 hours of community involvement hours
2- Students are blocked into core subjects: English, Physical Education, Civic and Careers and History
3- Special Mentor Groups
4- Completion of Grade 11 Leadership Course
5- Attend Guest Speaker Sessions and Workshops
6- Leadership Activity Passport

এটা একটা টাইট প্রগ্রাম। আমার ধারণা এই ধরণের প্রগ্রাম ও বিষয়ভিত্তিক চর্চার মাধ্যমে একজন আদর্শ নেতা গঠন করা সম্ভব। রাজনীতি একটা প্রতিষ্ঠান, অথচ সেখানে ঢোকার জন্যে কোন চর্চা নেই, সংস্কৃতি নেই, শিক্ষা নেই বাঙলাদেশসহ তৃতীয়-বিশ্বের অনেক দেশে। ফলে যা হবার তা আমরা চোখের সামনে দেখছি। ঠিক একইভাবে বললে মনে হয় তেমন দোষ হবে না যে, পরিবারও একটা প্রতিষ্ঠান, কিন্তু সেই পারিবারিক জীবন বিবাহ বা অন্য যে কোন গ্রহণযোগ্য উপায়ে শুরু করার আগে আমাদের কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, গবেষণা, আলোচনা তেমন কিছু নেই। কবিয়ালের দরাজ গলায় গান আছে-

বিদ্যাশিক্ষা না করিতে আগে করছো বিয়া
ও তুই বিনাখতে গোলাম হইলি গাইটের টাকা দিয়া
মাঝি বাইয়া যাও রে———–

কবিয়াল যদি এই যুগের মানুষ হতেন এবং আমাদের নেতা, মহানেতাদের ফলিত রাজনীতি চর্চা প্রত্যক্ষ করতেন, তাহলে হয়তো গানটা গাইতেন অন্যভাবে–

বিদ্যাশিক্ষা না করিতে আগে হইছো নেতা
মুল্লুকটারে নরক বানাই কেমনে যায় গো জেতা
মাঝি বাইয়া যাও রে……অকুল দরিয়ার মাঝে…।

প্রকৃত সুশিক্ষিত নেতা পাওয়ার ব্যপারেও আমার ঠিক একই কথা- নেতাগিরি শিখতে হয় পড়াশুনা, চর্চা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে। অন্য কোন উপায় আছে বলে মনে হয় না।

শিক্ষাদীক্ষা একটা নান্দনিক প্রচেষ্টার নাম। এর জন্যে একটা পরিবেশ, আবহ বা সংস্কৃতি থাকতে হয়। কোন জাতির উত্থানের উষালগ্ন থেকে সেই পরিবেশের জন্ম হয় না, তবে তাদের মনের গহনে একটা আশা ও ইচ্ছাঘুড়ি পতপত করে উড়তে থাকে। এই ধরণের স্বপ্ন নিয়ে যে জাতি ক্রিয়াশীল থাকে সেখানে শিক্ষার একটা সংস্কৃতি গড়ে উঠে। সেই সাথে নতুন ও গতিশীল নেতৃত্বও জন্ম নেবার সুযোগ তৈরি হয়ে যায়। নেতা আকাশ থেকে পড়ে না। কোন স্বপ্নভুক জাতি একটু একটু করে নেতা তৈরি করে। নেতৃত্বের বিগ্রহ গড়ে মনের উঠানে। উন্নত দেশগুলোর নেতৃত্বের ইতিহাস অন্ততঃ তাই বলে দেয় আমাদের। পশ্চিমের বাইরের খোলশের অনুকরণ করে শুধু বিয়ার খেয়ে নাচানাচি করলে তাদের মতন কিছু একটা হওয়া যায় না, তা প্রমাণিত সত্য। কিছু একটা হতে গেলে, নেতৃত্বের বিগ্রহ গড়তে গেলে পশ্চিমের খোলশ ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করতে হবে। দেখতে হবে সেখানে কি আছে। এই খোলশের ভিতরে থাকে স্পিরিট, লিডারশীপ স্পিরিট, যেটাকে অনুকরণ করা যায় না, কিন্তু ট্রান্সেন্ড বা আত্মায় ধারণ করার কৌশল রপ্ত করা যায়। তাই শিক্ষা ও সাধনার কোন বিল্প নেই- নেতৃত্বের সাধনা।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s