অভিবাসন একটি বৈশ্বিক বাস্তবতা


khali

লিখেছেন- শাখা নির্ভানা

উন্নয়নশীল দেশসমূহ থেকে দক্ষ অদক্ষ শ্রমশক্তি উন্নতবিশ্ব ও অনালোকিত ধনী মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়ে রেমিটেন্স আয় এবং সেই আয়ের দৌলতে তথাকথিত নেতৃত্বের নিজ দেশে রাজনৈতিক ক্ষমতার একাধিপত্য প্রতিষ্ঠা একটা বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করার সাহস বা উপায় কারও নেই।

বোকারা নিজেদের বানানো স্বর্গে বাস করে পুলকিত হয়, না জেনে, না বুঝে, একেবারে তাদের মৌলিক অজ্ঞতা থেকে। কিন্তু যারা জেনে, শুনে, বুঝে এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে প্রবাসে স্থিত মানুষগুলোকে নিজস্ব শ্রেণীচরিত্রের হলুদ চোখ দিয়ে বিচার করে এই সিদ্ধান্তে উপনিত হয়ে যে, প্রবাসীরা অন্তঃসারশূন্য দেশপ্রেমহীন দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক এবং তারা নিজেদেরকে প্রচণ্ড দেশপ্রেমি ও সৃজনশীল প্রাণী মনে করে আত্মতুষ্টির স্বর্গে বাস করেন, তাদেরকে বোকাদের স্বর্গে বসবাসকারী পূণ্যবান বলা যায় না। তাদের বলা যায় পরশ্রীকাতর ইচ্ছা-অন্ধ।

একটা দেশের নাগরিকদের বিষয়ে আমরা বিশ্বাস করি- All men are created equal. তাই নাগরিকের শ্রেণী বিভাগ কিভাবে করে তা জানি না। তবে আমার এক বাংলাদেশী বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী বন্ধুর দেশীয় নাগরিকতার শ্রেণী অভিজ্ঞতার বিষয়ে কিছু ধারণা দিতে পারি। তাকে একদিন কানাডা থেকে ফোন করে জিজ্ঞেস করেছিলাম- কেমন যাচ্ছে আপনার দিনকাল। উত্তরে সে বলেছিল- কিছুই বুঝতে পারি না এখন। ধুম্রজালের মধ্য আছি। বলেছিলাম, উপরওয়ালাদের সাথে যোগাযোগ না রাখলে ভাল থাকতে পারবেন না। আক্ষেপ করে সে বললো- ক্ষমতার একেবারে শেষ কাতারের কেউও যদি চোখ রাঙায়, তার পা ধরে মাপ চেয়ে নিতেও আমার কোন আপত্তি নেই। ছোট্ট এই উদাহরণটা থেকে বুঝা যায়, দেশের মানুষ, ক্ষমতার বাইরের মানুষ, বেসরকারী স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টারী করা জ্ঞানীগণ স্বদেশে কোন স্তরের নাগরিকত্বের স্বাদ গ্রহণ করছেন। এটুকু বুঝতে অন্ততঃ জাহজের কারবারী হওয়া লাগে না। আদার বেপারী হলেই চলে।

এটা কেপিটালের যুগ। প্রবাসীরা, প্রবাসে বাজার পাওয়া পোশাক-শিল্পীরা সেই কেপিটালই তৈরি করছেন দেশের জন্যে। যারা বাস্তবে অসহনীয় যন্ত্রণা সহ্য করে স্বদেশের জন্যে পুঁজির সংস্থান করছেন, তাদের সম্মান করা শেখেন। এতে বুদ্ধিজীবি হিসাবে আপনার পজিশনের তেমন কোন নড়চড় হবে না। বাস্তবতাকে মেনে নিলে পরিণামে সবার লাভ। ধ্রুপদী সমাজবাদের স্বপ্ন দেখেন ভাল কথা। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা কতটা শক্ত এবং সেই মতাদর্শের উপযোগী মানুষ হবার পিছনে কি কি বাঁধা সেটা বুঝতে পারাও কম শক্ত নয়। কোন চিন্তা, তত্ত্ব, সূত্র, ইজম পরিপূর্ণ নয়। সব কিছু মিলিয়ে-ঝিলিয়ে পরিপূর্ণতার কাছাকাছি যাওয়া যায়। তারপরেও কিছু না কিছু অসম্পূর্ণতা থেকে যায়। একথা পুঁজিবাদ, সমাজবাদ সবার বেলায় সত্য। চোখের সামনেই তো স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দেশগুলোর দৃষ্টান্ত খাড়া। তারা কি সমাজবাদ থেকে কিছু অর্জন, কিছু বর্জন করে সমৃদ্ধ হয়নি? 

দেশ বাঁচাতে পুঁজি চাই। দেশের এই চাওয়া প্রবাসীরা অনেকটা মিটায়। দেশের কাছে তাদেরও তো কিছু চাওয়ার থাকতে পারে। কী সেই চাওয়া? তারা চায় নিরাপত্তার সাথে দেশে আসা যাওয়া, আর বিনিয়োগের পরিবেশ। তা কি তারা পেয়েছে? এই বিষয়টা নিশ্চিৎ করা তো আপনাদের দায়। প্রবাসীরা তাদের অংশের কাজটা করতে পারলেও আপনারা নিজেদের কাজটা ঠিকমত করতে পারছেন না। উল্টে প্রবাসীরা আপনাদের চোখে হয়ে যাচ্ছে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক। এটা সত্যি বড় অন্যায়। বুকে হাত দিয়ে সত্য করে বলুন তো- নাগরিক শব্দের অন্তর্ণিহীত তাৎপর্য কী আপনারা জানেন? বুঝেন?

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s