একটা গুরুত্বহীন কবিতা


khali

লিখেছেন- শাখা নির্ভানা

প্রকৃতির নিষ্ঠুরতা আদি ও অনন্ত। সৃষ্টির শুরুতে তার সূচনা। আমার বাঁচা নির্ভর করছে তোমার মৃত্যুর উপরে। খাদ্যচক্রের এই নির্ভরতা থেকে কোন প্রাণীর নিস্তার নেই। এক জাতীয় বিষাক্ত পতঙ্গ আছে যারা ডিম পাড়ে নিরীহ কড়াপোকার শরীরে। সেইখানে ডিম ফোটে। পতঙ্গ জীবনের একটা পর্যায় অতিক্রম করে সেখানে। হোস্টের শরীর থেকে পুষ্টি পায়, বিষ ছাড়ে এবং এক সময় পূর্ণাঙ্গ হয়ে হোস্টকে যন্ত্রনায় যন্ত্রনায় মেরে ফেলে তবে দেহটা ছেড়ে যায়। এই নিষ্ঠুরতা অস্তিত্বের কারণে। পৃথিবীতে আগমনের তাগিদে। যৌনতার কারণে, খাদ্যের অধিকার নিয়ে প্রাণী একে অপরকে আঘাত করে, হত্যা করে। নিরাপত্তার কারণে বাঘ নিজের রাজ্যে ঢুকে পড়া অন্য বাঘকে মেরে ফেলে বা তাড়িয়ে দেয়। এসবই প্রকৃতির নিষ্ঠুরতার চক্র। পশু-পাখিরা যেমন এই বৃত্তে বাধা, মানুষও তেমনি বাঁধা পড়ে যায় সেই একই নিষ্ঠুরতার জালে। মানুষ যখন তার বিচার বুদ্ধি, যুক্তি, মানবিক চেতনাকে জলাঞ্জলি দেয়, তখন তাকে প্রকৃতির অন্যান্য জীব্জন্তুর থেকে আলাদা করা যায় না। প্রকৃতির নিষ্ঠুরতার একটা যুক্তি থাকলেও থাকতে পারে, কিন্তু মানুষের নিষ্ঠুরতার পিছনে কোন যুক্তি যখন কাজ করে না, তখন সে নেমে যায় পশুর থেকে অনেক নিচের স্তরে। জৈবিক অস্তিত্বের প্রতি কোন হুমকি নেই, খাদ্য, যৌনতার অধিকারও কেউ কেড়ে নিচ্ছে না। শুধু আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্যে রাতের আধারে মানুষকে তুলে নিয়ে মেরে ফেলাকে প্রকৃতির কোন নিঠুরতার সাথে তুলনা করা যায় কি? খাদ্য, ক্ষুধার কারণে নয়, অদৃশ্য ঈশ্বরকে খুশি করতে, পূণ্যের বোঝা ভারী করতে ঝাকে ঝাকে পশুহত্যা মানুষ ছাড়া আর কোন প্রাণী করে কি? মানুষের যুক্তিহীন নিষ্ঠুরতার দৃষ্টান্ত শুধু এই দুটো নয়, আরও আছে অগুণিত। এই পতিত অবস্থাকে সাথে নিয়ে কিভাবে সৃষ্টির সেরা দাবী করা যায়? এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হলে ধাপে ধাপে প্রথমে প্রকৃতির অপারপার প্রাণীদের মতন যুক্তিহীন হত্যা বন্ধ করতে হবে, তারপরে মানবিক চৈতন্যের চর্চা করতে হবে। খাদ্যচক্র থেকে বেরিয়ে আসা যায় কিনা ভাবতে হবে। অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনে ভয়াবহ অপরাধীকে মেরে না ফেলে সমাজ থেকে আলাদা করে আটকে রাখতে হবে। আমরা এই শতাব্দীতে এসে খাবার চোরকে পিটিয়ে মেরে ফেলি। বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে মানুষ মেরে স্বর্গে যাওয়া নিশ্চিত করি। মানুষ হওয়ার সক্ষমতা জেনেটিকালি মানুষের ভিতরে রয়েছে। সেই ক্ষমতার উন্মেষ ঘটাতে হবে। মনে রাখতে হবে মানুষ শব্দটা কোন কাটাতারে আটকে নেই। এর সীমানা ও সম্ভাবনা অসীম।

মানবোন্নয়ন বা হিউম্যান ডেভলপমেণ্ট আসলে জিনিসটা কি? পেশাগত দক্ষতার সাথে সাথে মানবিকতার দিক দিয়ে এগিয়ে থাকার নাম মানবোন্নয়ন। বিভিন্ন জাতি রাতদিন নিরলস পরিশ্রমে এই পথে অনেক এগিয়ে আছে। সবচেয়ে আগে এই হিউম্যান ডেভলপমেন্টে এগিয়ে আছে যারা, সেই স্ক্যণ্ডিনেভিয়ান জাতির নাম করতে হয়। তাদের এই শিক্ষার শুরু হয় বাচ্চা মায়ের পেটে আসার পরপরই এবং শেষ হয় মৃত্যুতে। এটা একটা চলমান প্রকৃয়া। এই প্রকৃয়াকে চলমান রাখতে তাদের উপযুক্ত পরিমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সাপোর্ট আছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় এইসব বিষয় না আনতে পারলে মানুষ হবার পথে বিরাট বাঁধা থেকে যাবে। আমাদের অধিকাংশ নেতাদের সাথে আলাপ করে দেখেছি, তারা হিউম্যান ডেভলপমেণ্ট বলতে দেশের মানুষকে গণহারে কারিগরী শিক্ষা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রম বাজার ধরতে পারাকে বুঝে থাকেন। আমার মনে হয়, আমাদের নেতৃত্বের সঠিক প্রশিক্ষন ও লেখাপড়া জরুরী হয়ে পড়েছে। 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s