মেয়েরা উপভোগের বস্তু নয়


Rima Lima

লিখেছেন- রিমা লিমা

সবসময় অফিস থেকে ফেরার পথে বাসার প্রয়োজনীয় জিনিস কেনাটা  অলিখিত নিয়ম হয়ে গেছে লাবন্যর কাছে। অফিস আর সংসার কিভাবে যে লাবন্য সামলায় ! শুক্রবারটা তার জন্য ভীষণ ব্যস্ততম  একটি  দিন।  সেই সকালে ঘুম থেকে উঠেই নাস্তা পর্ব শেষ করেই ছুটতে হয় বাজারে। তারপর পুরোসপ্তাহের  প্লান কিভাবে কোনদিন কি রান্না হবে তা খালাকে বুঝিয়ে দেয়া। এরপর বিশাল একটা  সময় যায় বাচ্চাদের পুরো সপ্তাহের টিফিনের প্রস্তুতিপর্ব শেষ করতেই।

তমাল আবার শুক্রবার দিন খুব িরলাক্স মুডে থাকে। তার সেদিন খুব স্পেশাল আইটেম না হলেই নয়। এই  যেমন সদ্য কেনা পাব্দা মাছের ঝোল সাথে কুমরো বড়া, শুটকি ভর্তা, দেশি মুরগি আলু দিয়ে রান্না।  লাবন্য খুব যত্ন করে সেদিন নিজেই রান্না করে।

লাবন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে সবাইকে খুশি রাখতে। লাবন্যর মা খুব কাছেই থাকেন তবুও প্রতি শুক্রবার মন চাইলেও যেতে  পারে না। পারবেই বা কিভাবে রাতে তমাল হয় তার বন্ধু নয়ত তার কোন ভাই বা বোনকে নিমন্ত্রণ  করে বসে থাকে।

সব মিলিয়ে লাবন্যর জীবন ভীষণ কঠিন আর ব্যস্তময়। তবু সকালে বাচচাদের তৈরী করে কোনভাবে নিজে তৈরী হয়ে যখন অফিসে নিজের রুমে গিয়ে বসে কি যে প্রশান্তি!  অফিসে কাজ করার ফাঁকেফাঁকে যখন  চাইলেই অফিস পিয়ন চা দিয়ে যায় বা দুপুরের খাবার টা  গরম করে দিয়ে যায় খুব ভালো লাগে। আসলে ব্যস্ততার মাঝেও অফিসের প্রতিটি মুহূর্ত নিজের একান্ত মনে হয় তাই সময় টাকে খুব উপভোগ করে লাবন্য। চাকুরী করা নিয়ে তমালের সাথে কম দ্বন্দ্ব হয়নি। এখনো এটা তমাল মেনে নিতে চায় না। যেদিন থেকে তমালের প্রমোশন হয়েছে তারপর থেকেই তমালের আপত্তি শুরু। কারন সংসারে আর লাবন্যর আয়ের প্রয়োজন নেই। লাবন্য আপ্রান চেষ্টা করেও  বুঝাতে পারে না যে চাকুরী তার পরিচয় তার পেশা।

অফিসে লাবন্য তার দক্ষতা আর ভালো অমায়িক ব্যবহারের জন্য খুব জনপ্রিয়। ম্যানেজমেন্ট থেকে অফিস পিয়ন সবাই লাবন্যর উপর খুশি। হবেই বা না কেন অফিসের যে কোন সমস্যা বা নতুন কোন প্রজেক্ট লাবন্যর মত এত ভালো হান্ডেল কেউ করতে পারে না। আবার কার মেয়ের বিয়ে হবে তাকে সবাই মিলে টাকা তুলে দেয়া এইসব উদ্দোগ নিতে লাবন্যই অগ্রণী ভুমিকা পালন করে।

আজ অনেকদিন পর বাসায় আসার পথে শিলার বাসায় গেল। শিলা স্কুলের বন্ধু। লাবন্য  যখন জীবনের কঠিন নিয়মের বেড়াজালে হাফিয়ে উঠে তখন শিলার সাথে কথা বললে  ওর মনটা ভালো হয়ে যায়।   ঠিক ৩০ মিনিট ছিল তারপর বাসায় চলে যায়। রাতে ফেসবুকে শিলার লাবন্যকে নিয়ে পোস্ট দেখেই তেলেবেগুনে রেগে গেল তমাল। “ কি ব্যাপার অফিসের নাম করে তো  আডডা ভালোই দাও। বাসায়  বাচ্চা একা থাকে আর তুমি আড্ডাবাজি করে বেড়াও।” লাবন্যর মুহূর্তেই মনটা বিষাদে ভরে গেল। শুধু প্রতিউত্তরে বলল ……… “আমার কি নিজস্বতা বা নিজের বলে কিছু থাকতে নেই।

আমি মাত্র আধা ঘনটার জন্য গিয়েছিলাম। তুমি কি অফিস থেকে ঠিক  সময়মত ফিরে আসো ? বাচ্চারা কি তোমাকে  মিস  করে না?  আমি ওদের সব দায়িত্ত কি ঠিক ভাবে পালন করিনা?”

এবার তমাল রাগে অগ্নিমূর্তি হয়ে যায়; বলতে থাকে…… “ আমার সাথে তোমার তুলনা। তোমাদের ছোট  অফিস আমি প্রতিদিন জন্ম দিতে পারি। আর কত বেতন পাও  তাই গলা নিচা করে কথা বল।”      লাবন্য শুধু বলল …………… “এক টা  সময় আমার উপার্জন ছাড়া তোমার সংসার চলতো না।”

তমাল রাগে গর্জন করতে করতে বলল …….. এক চড়ে তোর দাঁত ফেলে দিবো। লাবন্য শুধু বলল  বাচ্চারা শুনবে দয়া করে থামো। তমালের রাগ কমে না বলতেই থাকে …………… “তোর টাকা  দিয়ে তো সংসার  চলেনা। আর এখন চাকরি করিস তোর নিশ্চয় অফিসে বয় ফ্রেনড আছে তার সাথে ফুর্তি করিস। তোদের মত নারীবাদিদের আমার চেনা আছে।” লাবন্য কোন কথা না বলে নিজের ক্লান্ত শ্রান্ত মন নিয়ে ঘর  থেকে বের হয়ে যায়।

স্নান সেরে লাবন্য খুব স্বাভাবিকভাবেই বাচ্চাদের নিয়ে পড়াতে  বসাল। রাতে বাচ্চাদের কে খাইয়ে দিল  নিজ হাতে। তারপর তমালের সাথে বসে খেয়েও নিল।

লাবন্যকে ঠিক  ভোর ৫ টায়  ঘুম থেকে উঠতে হয়। উঠেই  সব কাজ ঘুছিয়ে নিতেই রহিমা খালা আসে। খালাকে সব বুঝিয়ে বাচ্চাদের দুপুরের খাবার পর্যন্ত রেখে যায়।  তারপর স্কুল থেকে ফেরার পর যেন খালা লেবুর সরবত করে দেয় তা মনে করিয়ে দেয়। খালা হাসে বলে…… এতদিন ধইরা আছি আর শিখান লাগবো না আফা।

অফিসে যাবার পর তমালের ফোন আসে। তমাল কোন প্রকার স্যরি বা ভুমিকা ছাড়াই বলে শুন আমি কালকের ফ্লাইটে থাইলানড যাব  তাই আমার ব্যাগ ঘুছিয়ে রাখবে। এইবার লাবন্য উত্তর দেয় ……… ‘আমার মিটিং আছে ফিরতে দেরি হবে আর কাল বিভার পরিক্ষা তাই তোমার লাগেজ দয়া করে নিজেই ঘুছিয়ে নিও।’ এরপর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই লাবন্য লাইন কেটে  দেয়। ঠিক  ৫ মিনিটের মাথায়    তমাল আবার ফোন করে। তমাল বেশ অবাক হয়েছে মনে হয় বলল,…… ‘  কালকের কথা বাদ দাও।  তুমি জান আমার কোথায় কি আছে তাই কাজ টা  করে রেখো।’  লাবন্য উপহাসের সুরে বলে……………  ‘আমাকে ছাড়া তোমার অনেক কাজই হয়না তাই তো? এত কিছুর পরও এখনো স্যরি বলাটা শিখতে পারলে না।’

বাসায় গিয়ে দ্রুত হাতের কাজ ঘুছিয়ে নিয়ে লাবন্য তমালের ব্যাগ ঘুছিয়ে রাখে।

সকালে তমাল চলে যায়।  ইভা আর বিভাস কে স্কুলে নামিয়ে লাবন্য অফিসে চলে যায়।  খুব অদ্ভুত হলেও সত্যি যে কয় দিন তমাল অফিসের কাজে বাসার বাইরে থাকে লাবন্যর খুব ভালো  লাগে। বাচ্চাদের সাথে  সুন্দর সময় কাটে।  তমাল যতক্ষণ থাকে শুধু  হুকুম করে যায়  যেমন,,,,,,,পানি  দাও,,,,,,,লাপ টপ  দিয়ে যাও,,,,,,, আমার মোবাইল কোথায়? আবার কখনো তার ঘাড়  মাসাজ করতে হয়। অথচ লাবন্যরও যে এই সেবা পেতে ইচ্ছে করতে পারে! তাই তমালহীন সময়টা  লাবন্য মনে প্রানে উপভোগ করে।

ঐ সময়টাতে রাতে বেশী  সময় টিভি দেখে বা প্রিয় কোন গল্পের বই নিয়ে বসে যা তমাল থাকলে সম্ভব নয়।  বিছানায়  অনাকাঙ্ক্ষিত আযাচিত ভালোবাসাাহীন স্পর্শ থেকে মুক্ত কয়েকটা  দিন লাবন্য বেশ উপভোগ্ করে। একটা দিন মার সাথেও দেখা করে কিছু টা সময় কাটাতে পারে। তমাল না থাকলেই লাবন্য শুক্রবারটাকে নিজের মত কাটাতে পারে।

এবার তমাল ২০ দিনের জন্য যাচ্ছে। লাবন্য তার ২০ টি স্বাধীন দিনের জন্য মনে মনে কিছু প্লান করে নেয়। যেমন একদিন মা আর বাচ্চা সহ সকালে দাদী বাড়ি যাবে থাকবে বিকেল পর্যন্ত। আর একদিন শিলা সহ সব কলেজের বন্ধুদের ডাকবে বাসায়। সে এত ব্যস্ততার মাঝেও খুব সুন্দর করে ঘর ঘুছিয়েছে। লাবন্য সবুজ ভালোবাসে তাই বিভিন্ন প্লান্ট দিয়ে বারান্দা, লিভিংরুম এমনকি শোবার ঘরেও এর ছোঁয়া আছে।

একসময় সে খুব ভালো রবীন্দ্রসংগীত গাইত। কবিতা লিখত। কলেজে একবার হৈমনতী চরিত্রটি করে অনেক প্রশংসিত হয়েছিল। ইউনিভারসিটি তে ওকে সবাই লাবণ্যময়ী ডাকত।  তমাল অনেকদিন  পিছু নেবার পর লাবন্য রাজী হয়েছিল। তখন তমাল লাবন্যর গান, অভিনয়, কবিতা সব কিছুতেই উৎসাহ দিত। বিয়ের পরই তমাল দিন দিন অচেনা হয়ে যায়।

বাচ্চাদের কাছে যদিও তমাল খুব ভালো  বাবা। বাচ্চাদের সব আবদার মেটাতে তার জুড়ি নেই। এক্ষেত্রে  লাবন্য বেশ কঞ্জারভেটিভ। লাবন্য চায় বাচ্চারা পড়াশোনার প্রতি বেশী  সিরিয়াস হোক।

তমাল ফিরে আসার পর আবার সেই কঠিন  রুটিন জীবন শুরু।  তমালের সুটকেস টি  তুলে রাখবে ভেবে কি মনে করে খুলে চেক করতে গিয়ে লাবন্য বিস্মিত হতবিহবল হয়ে যায়। কারন সুটকেসের   পকেটে লাবন্য কনডমের প্যাকেট দেখতে পায় যেখানে মাত্র একটি  অবশিষ্ট আছে তারমানে চারটি ব্যবহৃত হয়েছে।

রাতে খুব গম্ভিরভাবে খাবার শেষ করে বাচ্চারা ঘুমিয়েছে নিশ্চিন্ত হয়ে লাবন্য তমালের মুখোমুখী হয়। পাকেটটি দেখিয়ে জানতে চায় এর রহস্য।  তমাল খুব নির্দ্বিধায় অবলীলাক্রমে  বলে দেয়…… আমি এবার  প্রায় ২২ দিন বাইরে ছিলাম। আর আমার মিটিং মিনিটস এবং টাইট  সিডিউল ফলো করতে একজন হেল্পিং হানড মানে ওই কালো মোটা হোলা বেড়াল মারকা পপি থাকে। আমার ব্যক্তিগত সহকারী যাকে তুমি আমাদের অফিস পার্টিতে  দেখেছ। তারপর ঠিক  নরপিশাচের মত হাসতে হাসতে বলে……………You know, I don’t consider women as beautiful or ugly, all I know is that women are obtaining one specific organ for us, so that we could release our liquid there. You should feel lucky that you are the only person with whom I use no protection while doing it.  রাগে ঘৃনায় লাবন্য তখন কাঁপছিল।

লাবন্য কষে একটা  চড় বসিয়ে দিলো  তমালের গালে। তমাল প্রস্তুত ছিলনা।  তমাল রেগে বলে ফেলল, ……….Oh ! you bitch I will kill you.,  কোথা থেকে এত শক্তি  পেল লাবন্য জানে না।                 ঘৃনায়  তমালের দিকে একদলা থু থু ছিটিয়ে দিল। এবার তমাল লাবন্যর দিকে হাত উঠাতেই লাবন্য দ্রুত হাতটা  ধরে ফেলল। এরপর বলল,,,,, ‘ছেলে হয়ে জন্মেছিস বলে তোর অনেক গর্ব তাই না। তোরা ভাবিস মেয়েরা  তোদের বিনোদনের বস্তু। যা খুশি যেমন খুশি ব্যবহার করতে পারিস।’

তমাল এবার হিংস্র পশুর মত চিৎকার করে বলতে লাগ ল ……‘আমার খাবি আমার পড়বি আর  আমাকেই চোখ রাঙাবি।  এই মুহুরতে এক কাপড়ে বের হয়ে যাবি।’

এবার লাবন্য হাসতে লাগল বলল………… “ তুমি কি আমাকে বাংলার চিরন্তন নারী জামিলা বা হালিমা পেয়েছ?  তোমার  স্বীকারুক্তিমুলক উন্নাসিকতা আর নষ্ট চরিত্রের উপাখ্যান মানে সব কথা আমার ফোনে রেকর্ড হয়ে গেছে।  তাই আদালতে তোমার মত দুশ্চরিত্রের মুখোশ খুলতে এটাই যথেষ্ট। লাবন্য এবার ব্যঙ্গ করে বলল ……….“ কি ভাবছেন মালটিন্যাশনাল করপোরেট এরপর চাকুরী বাঁচাতে পারবেন তো?” এরপরই তমাল যেন ভেজা বেড়ালের মত চুপসে গেল। শুধু বলল………… “ দেখ তুমি এটা করতে পারোনা।  আমাদের বাচ্চাদের কথা ভাবো একবার। ওদের ভাল স্কুলে পড়া বন্ধ হয়ে যাব। And you know I  am a good father. They need me.’

এবার লাবন্য বলল আমার বাচ্চাদেরকে বাইরে খেতে নিয়ে যাওয়া আর দামী গিফট কিনে দেয়া ছাড়া তোমার আর কোন ভুমিকা নেই। তবে তুমি শুধুই আমার সন্তানের বাবা এছাড়া তোমার আর কোন অস্তিত্ব নেই আমার কাছে। আমি নিজেকে তোমার মত পশুর গিনিপিগ কর‍তে আর চাইনা।

লাবন্য এবার খুব কঠিন  গলায় বলল আমি আমার বাচ্চাদের নিয়ে চলে যাব। তবে হ্যা বাচ্চাদের স্কুলের সম্পূন খরচ তোমাকেই বহন করতে হবে। আমি যা পাই তা দিয়ে বাসা ভাড়া এবং খাবার খরচ হয়ে যাবে। এবার তমাল মরিয়া হয়ে আকুতি মিনতি করতে থাকে। লাবন্য ঘৃনা নিয়ে বলে……… “ প্লিজ আর  নয়। ভালোবাসাহীন সম্পর্ক মেনে নিয়েছিলাম কিন্তু নারীত্বের এত বড় অপমান আমি মেনে নিতে পারবো  না। তবে হা আমি তোমার নোংরা দিকটি  বাচ্চাদের জানাবো না তবে তোমাকে ডিভোর্সও দিবো না। তুমি চাইলে মাঝে মাঝে বাচ্চাদের কে দেখতে পারবে।”

আর যদি ভাবো আদালতে যাবে বাচ্চাদের মালিকানা বা ডিভোর্স পেতে আমি কিন্তু শক্ত হয়েই লড়ব। তোমার প্রতিটি অন্যায় আমি এক এক করে তুলে ধরব। এরপর হেসে ঘৃনা নিয়ে বলল না তোমার পরিচয়ে আমি আর বাঁচতে চাইনা। আমার নিজের গড়া পরিচিতি আর নিজস্বতা নিয়েই বাকি জীবনটা কাটাতে চাই। আমি তোমাকে বিয়ের  নাটক  করে আর কোন মেয়ের জীবন নিয়ে খেলতে দিবো না। তুমি হয়ত সুযোগ পেলে গ্রামের অতি সাধারণ  সহজ  সরল কোন মেয়েকে আবার সংগী করবে। সে সুযোগ আমি তোমায় দিবনা। কাবিননামায় স্পষ্ট লিখা আছে আমার অনুমতি ছাড়া তুমি দ্বিতীয় দারগ্রহণ করতে  পারবে না।  লাবন্য আজ তমালের উদ্ধত দাম্ভিক নোংরা আচরনের যোগ্য জবাব দিতে পেরে  খুব তৃপ্ত।  অথচ এই তমাল একদিন লাবন্যর স্বপ্ন ছিল  ভালোবাসার মানুষ ছিল।

লাবন্য শীতল কণ্ঠে তমাল কে বলল………… “তুমি সারাজিবন ভালোবাসাহীন শারিরিক সম্পর্ক নিয়ে   বেঁচে থাকবে। তোমার যেহেতু টাকা আছে তাই অসংখ্য পপি থাকবে তোমার কিন্তু ভালোবেসে কেউ কোন  দিন তোমার কপালে হাত রাখবে না কেউ তোমার জন্য খাবার নিয়ে বসে থাকবে না।

এই কথাটা বলে লাবন্য আর পিছন ফিরে তাকায়নি। তাকালে দেখতে পেত একজন পরাজিত সৈনিকের মত তমাল  দাঁড়িয়ে আছে।

আজ লাবন্য অনেকদিন পর প্রান ভরে কাঁদল। আসলে অনেকদিনের জমা মেঘ আজ যে আর কোন বাঁধাই মানছে না। লাবন্য ভালোবাসাহীন কপট নাটকের যবনিকা টানতে পেরে আজ ভারমুক্ত।

লাবন্যর মত  মেয়েরা হার মানতে জানে না। একা কোন পুরুষের ছায়া হয়ে বেঁচে থাকাটাকে ঘৃণা  করে। নিজের অধিকার অর্জন করতে জানে। তাই লাবন্যর একলা চলা যে অনেক বেশি সম্মানের অনেক বেশি কাম্য।

2 Comments

  1. আপনার কথা গুলো অনেক ভাল লেগেছে। আর সবচেয়ে বেশী ভালো লেগেছে তমাল নামের পুরুষদের বযপারে এত সুন্দর করে তুলে ধরার ব্যাপার । ধন্যবাদ ।

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s